ডেস্ক রিপোর্ট
হামে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু; নতুন ভর্তি ১৪৫৬ জন।সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে চরম অদক্ষতা ও উদাসীনতার নজির রেখেছে বাংলাদেশের সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ৩১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হিসাবও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
শিশুদের নিয়ম মতো টিকা দেওয়ায় একসময় হামের সংক্রমণ বিরল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু চলতি বছর এই রোগের সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গতকাল পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একসময় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি সদ্য সাবেক এই সরকারের ১৮ মাসের আমলে কার্যত ভেঙে পড়ে।
টিকা কেনার পদ্ধতি ও অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। যা থেকে দেখা দেয় টিকার সংকট। শেষ পর্যন্ত টিকার মজুত একেবারে তলানিতে নেমে আসে। এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় হামের প্রাদুর্ভাব। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন এবং কয়েক দফায় কর্মবিরতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচির আওতা কমে যাওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পুরো মেয়াদে কোনো বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেনি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে একটি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি চালানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম ও রুবেলা (এমআর-১ ও এমআর-২) টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী সম্পূরক ক্যাম্পেইন না হওয়াকে এ সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

