অনলাইন ডেস্ক

আজ ৩ মে, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯৭তম জন্মদিন। ১৯২৯ সালের এই দিনে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিল ‘জুড়ূ’। একাধারে লেখিকা, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল বিরোধী আন্দোলনের এই নেত্রী আজও বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেম ও ত্যাগের এক অনন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন।


ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আবদুল আলী ও সৈয়দা হামিদা বেগমের ঘরে জন্ম নেওয়া জাহানারা ইমাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়াগো স্টেট কলেজ থেকে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করেন।


জাহানারা ইমাম ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষকতা করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জাহানারা ইমামের পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমী আমেরিকার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বেশ কিছু গেরিলা অপারেশনের পর রুমী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও সন্তান হারানো এই সংগ্রামী নারীকে স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা ‘সব মুক্তিযোদ্ধার মা’ হিসেবে বরণ করে নেন এবং তিনি ‘শহীদ জননী’ মযার্দায় ভূষিত হন। তাঁর রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এক প্রামাণ্য দলিল।
১৯৯১ সালে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের আমির ঘোষণা করলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘জাতীয় সমন্বয় কমিটি’।


ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সাথে লড়াই করেও তিনি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাঁর সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক ‘গণআদালত’ বসে, যেখানে ১০টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গোলাম আযমের প্রতীকী মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
আমৃত্যু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার এই মহীয়সী নারী ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে ভিত্তি তিনি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছে।

Leave A Reply

Exit mobile version