নিজস্ব প্রতিবেদক, কলাপাড়া :

 পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর নগ্ন হামলা এবং ‘মব ভায়োলেন্স’ সৃষ্টির কারিগর হিসেবে পরিচিত আরাফ উজ জামান মুনকে (পিতা: মৃত মনির মোল্লা) জাল টাকাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সপ্তাহে জাল টাকার কারবার করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার পর বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কলাপাড়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের (ইসলামপুর, উপজেলা সড়ক) বাসিন্দা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা গত কয়েক মাসে কলাপাড়া শহর ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, মুনের প্রত্যক্ষ উস্কানি ও নেতৃত্বে কলাপাড়া শহরের মধ্যেই অন্তত ২০০ জন ব্যক্তির ওপর ‘মব’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে পুঁজি করে সে ও তার বাহিনী শহরের বাইরের ইউনিয়নগুলোতেও শতশত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে।

মুনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—সে নিজেকে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে কলাপাড়ায় এক বিশাল ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’ গড়ে তুলেছিল। 

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করত, তাদের নাম পুলিশের তালিকায় ঢুকিয়ে গ্রেফতার করানো এবং পরবর্তীতে জেলগেটে হয়রানি করাই ছিল তার প্রধান কাজ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুনের একটি ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দম্ভ করতে দেখা যাচ্ছে। এই ছবি ফাঁসের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মুন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আসছিল।

জাল টাকার মামলায় মুনের গ্রেফতারের খবরে কলাপাড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মুনের এই অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য: “রাজনীতির দোহাই দিয়ে যারা মব ভায়োলেন্স করে এবং নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করে, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। সে একজন অপরাধী এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুনের বিরুদ্ধে জাল টাকা এবং আগের একাধিক সহিংসতার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার সাথে আর কারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

Leave A Reply

Exit mobile version