নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুসের স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (Reciprocal Trade Agreement) নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে মার্কিন কৃষি পণ্য, বিশেষ করে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের অবাধ বাজার সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে আমদানিনিষিদ্ধ শূকরের মাংস প্রবেশের পথ সুগম হতে পারে।

​গত ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর শুল্ক কমানোর বিনিময়ে মার্কিন কৃষি ও শিল্প পণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ার শর্ত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শূকর মাংস রপ্তানিকারক দেশ। তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে তারা সবসময়ই মাংসের বাজারে বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার চায়।

​বাংলাদেশের বিদ্যমান ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে জীবিত শূকর এবং শূকরজাত সকল পণ্য আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া, মাংস আমদানির ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই-এর ‘হালাল সার্টিফিকেট’ বাধ্যতামূলক। ৯৫ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে ধর্মীয় অনুভূতির কারণে শূকরের মাংস সামাজিকভাবেও বর্জিত।

​বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এই চুক্তিকে ‘অসম’ এবং ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, চুক্তির অস্পষ্ট ধারার সুযোগ নিয়ে মার্কিনিরা বাংলাদেশে শূকরের মাংস বাজারজাত করার সুযোগ পেতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পশুখাদ্যে অনেক সময় শূকরের উপজাত মেশানো থাকে, যা আমদানিকৃত দুগ্ধজাত ও অন্যান্য পণ্যের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমদানি নীতি শিথিল করা হলে তা দেশীয় গবাদিপশু খাতের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

​সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য রপ্তানি খাতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া। তবে শূকরের মাংসের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণ আসেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের জাতীয় নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এই চুক্তি বাস্তবায়নের আগে সব পক্ষকে সাথে নিয়ে স্বচ্ছ আলোচনার দাবি উঠেছে।

Leave A Reply

Exit mobile version