সংবাদদাতা: কথায় আছে, “পরের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেকেই তাতে পড়তে হয়।” চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অনলাইন বেটিং নিয়ে দ্বন্দ্বে ঠিক এমনটাই ঘটেছে মো. শাকিল নামে এক যুবকের ভাগ্যে। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুকে ধরিয়ে দিতে গিয়ে এখন নিজেই কাটাচ্ছেন কারাবাস।২৪ এপ্রিল, এপ্রিল রাত ১০টার দিকে বাঁশখালী পৌরসভার লক্ষ্মী স্কয়ার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে অনলাইন বেটিং অ্যাপে জুয়া খেলার সময় হাতেনাতে আটক করা হয় দুজনকে। তারা হলেন: সাকলায়েন মুশতাক (২০), মিয়ার বাজার এলাকা। মো. শাকিল (২৪), দক্ষিণ জলদী এলাকার আশকারিয়া পাড়া। বাঁশখালী নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ও ছাত্রদল নেতা (তিনি এলাকায় নিজেকে ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিতেন)।তদন্তে বেরিয়ে আসে এক নাটকীয় মোড়। মূলত সাকলায়েনকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন শাকিল।

তাদের মধ্যে ৮ হাজার টাকার একটি বেটিং লেনদেন সম্পন্ন হলেও শাকিল অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। এই টাকা নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে শাকিল কৌশলে সাকলায়েনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।তবে উপস্থিত স্থানীয়রা দাবি তোলেন, শাকিল নিজেও একজন পেশাদার জুয়াড়ি। তাৎক্ষণিক তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। দেখা যায়, তার ফোনেও শোভা পাচ্ছে একাধিক বেটিং অ্যাপ।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জেরার মুখে দুজনই ভিডিও বার্তায় দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাদের মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন যাচাই করে দেখা গেছে, তারা বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অর্ধলক্ষাধিক টাকা লেনদেন করেছেন।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই আদালত দুজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, “অনলাইন ও অফলাইন—সব ধরনের জুয়ার বিরুদ্ধে বাঁশখালীতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি।

যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এই ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”অভিযানে বাঁশখালী থানার এএসআই আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। প্রশাসনের এমন তড়িৎ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Leave A Reply

Exit mobile version