নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমেরিকা থেকে ১৮১ কোটি টাকার পাম তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এই আমদানির হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরাসরি উৎপাদক দেশ থেকে না কিনে আমেরিকা থেকে তেল কেনায় সরকারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
সরকারি তথ্যমতে, ১৮১ কোটি টাকায় আমেরিকা থেকে কেনা হচ্ছে ১৩,৭০০ টন পাম তেল। কিন্তু বাজার বিশ্লেষণ বলছে, একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে যদি সরাসরি মালয়েশিয়া থেকে তেল কেনা হতো, তবে পাওয়া যেত ১৪,৯৫০ টন। অর্থাৎ, একই খরচে ১,২৫০ টন তেল বেশি পাওয়া সম্ভব ছিল।
অন্যদিকে, পাম তেলের বৃহত্তম উৎপাদক দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে এই তেল কিনলে পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ১৭,৩০০ টন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমান চালানের চেয়ে অতিরিক্ত ৩,৬০০ টন তেল বেশি পেত। শতকরা হিসেবে ইন্দোনেশিয়া থেকে কিনলে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি তেল আসত দেশে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা।
মজার ব্যাপার হলো, আমেরিকা নিজে উল্লেখযোগ্য কোনো পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ নয়। তারা মূলত ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া থেকেই পাম তেল সংগ্রহ করে। এরপর সেই একই তেল বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি উৎপাদক দেশ থেকে না কিনে আমেরিকার মাধ্যমে তেল কেনায় একটি চালানেই ৩৫-৪০ কোটি টাকা মুনাফা হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী দেশটি। ডলার সংকটের এই সময়ে বিপুল পরিমাণ বাড়তি টাকা খরচ করে পাম তেল আমদানির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। পাম তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কেন সরাসরি উৎপাদক দেশের বদলে তৃতীয় কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে, তা নিয়ে খোদ আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মাঝে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই ‘ব্যয়বহুল’ সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপের সৃষ্টি হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

