ঢাকা, বেইলি রোড |

২০২৪ সালের বহুল আলোচিত গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠে এসেছে একের পর এক উদ্বেগজনক তথ্য।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. শাহজালাল মুন্সির অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে, ভবনের অব্যবস্থাপনা ও রেস্টুরেন্ট মালিকপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতাই এই ভয়াবহ প্রাণহানির অন্যতম কারণ।

তদন্তে জানা যায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কেউ বিল পরিশোধ না করে পালাতে না পারে। এমন নির্দেশ দেন রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জেইন উদ্দিন জিসান।

এই অমানবিক সিদ্ধান্তের কারণে ভেতরে আটকা পড়ে অনেক মানুষ, যাদের অধিকাংশই পরে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ভবনের সিঁড়িপথে। আগুন লাগার সময় নিচে নামার একমাত্র পথ সিঁড়িটি ছিল গ্যাস সিলিন্ডার ও বিভিন্ন দোকানের মালামালে ভরাট, যা দ্রুত বেরিয়ে আসার পথে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে অনেকেই নিরাপদে নিচে নামতে পারেননি।

অন্যদিকে, ভবনের ওপরের ফ্লোরে অবৈধভাবে পরিচালিত রেস্টুরেন্ট থাকার কারণে বাসিন্দারা সেখানে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানুষ কার্যত ফাঁদে পড়ে যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই ঘটনায় মোট ৪৬ জন নিহত হন। এর মধ্যে ৪৩ জন ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে এবং ৩ জন আগুনে পুড়ে মারা যান।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক স্বার্থে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বমহলে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। আদালতে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হলে ‘কাচ্চি ভাই’সহ সংশ্লিষ্ট সকল অনিয়মকারীর কঠোর বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave A Reply

Exit mobile version