নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার যুক্তিতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ (বেঞ্চ নম্বর: মেইন-২০) এই রুল জারি করেন। আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে জানতে চেয়েছেন কেন গণভোট অধ্যাদেশ ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দুই আইনজীবীর দায়ের করা এই রিটে মূলত সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। রিটকারীদের দাবি, বর্তমান সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই এবং রাষ্ট্রপতিকে এ ধরনের অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে দেওয়া হয়নি। ফলে এই সনদ ও অধ্যাদেশ সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
অন্যদিকে, শুনানিতে জামায়াতপন্থী ও এনসিপির আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, যদি গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ প্রশ্নবিদ্ধ বা অবৈধ হয়, তবে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এতে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে আপাতত সংসদের প্রথম অধিবেশনে গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে না সরকার। একইসঙ্গে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ কিংবা উচ্চ কক্ষ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোও স্থগিত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষেই নির্ধারিত হবে এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আইনি বৈধতা।

