নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬
বিদায়ি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে দায়িত্ব পরবর্তী সময়েও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হলেও সম্প্রতি তা জনসম্মুখে আসে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এক বছরের জন্য এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইনের পরিবর্তনের মাধ্যমে অসততার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জারিকৃত এসআরও (নং ২৮৫) সংশোধন করেছেন। আগের সেই আদেশে বলা ছিল, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টারা তাদের স্ব স্ব পদে কর্মবসানের তারিখ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সুবিধা পাবেন। ড. ইউনূস এই আদেশের পরিবর্তন ঘটিয়ে কেবল নিজের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে এক বছর করেছেন, কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেননি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুবিধার জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা যায় না। ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এই অধ্যাদেশটি একদিকে যেমন সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং অসাংবিধানিক, ঠিক তেমনই এটি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত স্বার্থপরতার একটি বড় উদাহরণ। তারা বলছেন, তিনি যদি বিদায়ি রাষ্ট্রপতি বা অন্যদের জন্যও সময় বাড়াতেন, তবে এর যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকত। কিন্তু কেবল নিজের জন্য এক বছরের ভিআইপি মর্যাদা নিশ্চিত করা অনৈতিক এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
শুধু নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ড. ইউনূস বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন এবং তার নিজের সব প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ করেছেন। এমনকি ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়েছেন। বিদায়ের আগে নিজের জন্য রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার এই প্রবণতা জনমনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

