নৌকা ছাড়া ভোট দিতে নারাজ ৬০ শতাংশ মানুষ

ভোট দিতে নারাজ!

রিপোর্ট | আর এইচ অনিক | Infobangla

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গণআন্দোলন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থায় একটি ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। এর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মনোভাবেও।

মাঠপর্যায়ের আলোচনা ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সব দলের অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে অনাগ্রহী একটি বড় অংশের ভোটার। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনাগ্রহের মাত্রা ধারণাগতভাবে প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নয়, তবে জনমনে গড়ে ওঠা একটি প্রবল অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় Infobangla–এর সঙ্গে কথা বলার সময় এমন মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এক পথচারী, যিনি নিজের নাম আবরার রহমান বলে পরিচয় দেন, বলেন—

“এমন নির্বাচনে অংশ নিতে মন চায় না যেখানে মত প্রকাশ করলেই উত্তেজনা তৈরি হয়। ভোটের পরিবেশ যদি নিরাপদ ও অর্থবহ না হয়, তাহলে ভোট দেওয়ার আগ্রহ থাকে না।”

আরেকজন নাগরিক, আব্দুর রহমান, আরও সরাসরি মন্তব্য করেন—

“নৌকা ছাড়া কিসের ভোট? আমি আমার পুরো পরিবারকে ভোট না দিতে বলেছি। এমন নির্বাচনে অংশ নিয়ে কী লাভ?”

এ ধরনের বক্তব্য শুধু কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলে একটি সাধারণ সুরই উঠে এসেছে—ভোট তখনই অর্থবহ হয়, যখন ভোটার বিশ্বাস করেন তাঁর অংশগ্রহণ বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই অনাগ্রহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। তাঁদের ভাষায়, নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়; এটি আস্থা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের সমন্বিত প্রক্রিয়া। এই তিনটির যেকোনো একটিতে ঘাটতি তৈরি হলে ভোটকেন্দ্র ফাঁকা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, ভোটারদের এই নীরবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত না করা গেলে নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—জনসম্পৃক্ত গণতান্ত্রিক উৎসবে রূপ নেবে না।

Infobangla–এর পর্যবেক্ষণে, দেশের একটি বড় অংশের ভোটারের কাছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন এখনো পূর্ণ বৈধতা পায় না—এই উপলব্ধিই বর্তমান ভোটার মনোভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।

One thought on “নৌকা ছাড়া ভোট দিতে নারাজ ৬০ শতাংশ মানুষ

Leave a Reply to Md.Murad kaosar Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *