মার্কিন কুখ্যাত পেডোফাইল জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। সেই আলোচনার রেশ এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের সরাসরি সুপারিশে আন্তর্জাতিক তহবিল পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক শিক্ষক এবং বর্তমানে এনসিপি–সংশ্লিষ্ট নেতা অধ্যাপক মাইমুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে।
এপস্টেইন ফাইলের ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, ২০১০ সালে জেফ্রি এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির আইন স্কুলের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে পাঠানো একটি ইমেইলে কয়েকজন আন্তর্জাতিক স্কলারের নাম সুপারিশ করেন। ওই তালিকায় অধ্যাপক মাইমুল ইসলাম খানের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এপস্টেইন ওই ইমেইলে অধ্যাপক মাইমুল ইসলাম খানকে এমন একজন স্কলার হিসেবে উপস্থাপন করেন, যিনি রাজনৈতিক কারণে নিজ দেশে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন—যাকে ‘স্কলার অ্যাট রিস্ক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ইমেইলে আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের শিক্ষকের নাম ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রাক্তন ছাত্র হাসান মাহমুদ টিপু’র দাবি, এই সুপারিশের ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক মাইমুল ইসলাম খান ২০১২ সালে একটি আন্তর্জাতিক তহবিল বা রিসার্চ–সহযোগিতা কর্মসূচিতে যুক্ত হন, যা পরবর্তীতে তার পেশাগত অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
মূলত, ১৯৯৭ সালে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ও জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনি জটিলতার মুখে পড়ার ভয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
ওই ইমেইলে কার্বন কপিতে (CC) ছিলেন মার্কিন ধনকুবের হেনরি জ্যারেকি, যিনি এপস্টেইন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আলোচিত।
এপস্টেইনের মতো একজন কুখ্যাত অপরাধীর সুপারিশে কোনো বাংলাদেশি শিক্ষকের সুযোগ পাওয়া কতটা নৈতিক ও স্বচ্ছ ছিল সেটা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
অধ্যাপক মাইমুল ইসলাম খান বর্তমানে চট্টগ্রামে জামায়াত অধ্যুষিত আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন—এমন তথ্য রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।
এই কারণে এপস্টেইন ফাইল ঘিরে তার নাম উঠে আসাকে অনেকে কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশেষ করে ইসলামী আদর্শ ও নৈতিকতার কথা বলা রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে একজন কুখ্যাত যৌন অপরাধীর নেটওয়ার্কে নাম আসা বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের পর যেসব নাম সামনে আসছে, সেগুলোকে তথ্যভিত্তিক যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তবে একই সঙ্গে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা আসাও জরুরি।
বিষয়ে অধ্যাপক মাইমুল ইসলাম খানের বক্তব্য জানতে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


