নিজস্ব রিপোর্ট:
একসময় বিদ্যুৎহীন গ্রামবাংলার রাত আলোকিত হতো কুপিবাতি, হারিকেন আর কেরোসিনের চেরাগে। বিদ্যুতের বিস্তারের সঙ্গে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক লোডশেডিং যেন পুরোনো সেই স্মৃতিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেরোসিনের বাতি তৈরির কাজে ব্যস্ত এক কারিগর। পাশে সাজানো রয়েছে তৈরি করা বেশ কিছু বাতি। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত সেই পুরোনো দিনের বাতি এখন আবার মানুষের প্রয়োজনের তালিকায় ফিরছে।
বিষয়টি নিছক নস্টালজিয়া নয়; এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতা। চলতি বছর গ্যাস সংকটের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কথা উঠে এসেছে।
লোডশেডিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প আলো ও বিদ্যুতের ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি ও অফিসে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যবহার বেড়েছে। একই সময়ে গ্যাস সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে, কেরোসিনের দামও এখন আর আগের মতো কম নয়। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দেশে কেরোসিনের খুচরা মূল্য প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
অর্থাৎ, বিদ্যুতের আধুনিক যুগে এসে লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষকে আবার সেই পুরোনো কেরোসিন বাতির দিকে তাকাতে হচ্ছে—যে বাতিকে একসময় বিদ্যুতের আলো প্রায় ইতিহাসের পাতায় পাঠিয়ে দিয়েছিল।
বিদ্যুৎ সংকটের এই বাস্তবতায় তাই প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল বাংলাদেশের আলো কি শেষ পর্যন্ত কেরোসিনের বাতিতেই খুঁজতে হবে?

