Infobangla ডেস্ক
বগুড়া | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
বগুড়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে বিপুল জনসমাগমের সুযোগে অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টা পর্যন্ত বগুড়া সদর থানায় অন্তত ৫০টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রেজাউল করিম তালুর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও রয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ বগুড়া শহরে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে হাজারো মানুষ সাতমাথা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেন তারেক রহমানকে একনজর দেখার এবং তার বক্তব্য শোনার আশায়।
এই বিপুল জনসমাগম ও ঠাসাঠাসি ভিড়ের সুযোগে সংঘটিত হয় মোবাইল ফোন চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অনেক ভুক্তভোগী জানান, ভিড়ের মধ্যে অচেনা স্পর্শ টের পেলেও বুঝে ওঠার আগেই পকেট বা ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় তারা বুঝতে পারেন, তাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যমটি আর সঙ্গে নেই।
চুরি হওয়া ফোনগুলোর মালিকদের মধ্যে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। অনেকের ফোনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ছবি ও জীবিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য, ফলে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেবুন্নেছা বেগম জানান, শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় ৫০টির বেশি জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেকে মৌখিক অভিযোগ জানাতে থানায় আসছেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাতমাথা এলাকা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করে ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন, ব্যবসায়ী রাজেদুর রহমান রাজু বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্টেশন রোডের বিআরটিসি মার্কেটের সামনে হাজারো মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে দেখার চেষ্টা করছিলাম। ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে পকেটে থাকা প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের আমার শখের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়।”
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম Infobangla–কে বলেন, “ফোন হারানোর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের ফোন উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে হারানো ফোনগুলো উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

