অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ (৭ আগস্ট, ১৯৪১) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। এই দিনে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই সূর্য চিরতরে অস্তমিত হলেও, তাঁর অমর সৃষ্টি, দর্শন, মানবতাবাদ এবং মুক্তচিন্তার দীপ্তি আজও সমগ্র বাঙালি সত্তার অন্তরে প্রদীপ্ত। রবীন্দ্রনাথ কেবল কোনো ব্যক্তি বা সাধারণ সাহিত্যিক নন; তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রধান নির্মাতা, স্বাধিকার আন্দোলনের মানসিক স্থপতি এবং মানবমুক্তির এক অনন্য কণ্ঠস্বর। বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রদর্শনের প্রাসঙ্গিকতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ সমগ্র উপমহাদেশের সংস্কৃতিকে এক অবিস্মরণীয় উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তাঁর নোবেল জয় ছিল বিশ্বমঞ্চে বাঙালি মেধার শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। বিশেষ করে, তাঁর অমর সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা’ আমাদের রক্তস্নাত স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও জাতীয় পরিচয়ের চিরন্তন প্রতীক।
১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করে রবীন্দ্রনাথ যে নৈতিক সাহসের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আজও এক বড় অনুপ্রেরণা বলে বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানান, দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি দেশের প্রকৃত মুক্তি শুধু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নয়; বরং তার সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় ও মুক্তবুদ্ধির অপ্রতিরোধ্য বিকাশের মধ্যেই নিহিত রয়েছে।
বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথের আজীবন লালিত অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তচিন্তাকে ধারণ করে সব ষড়যন্ত্র ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে একটি প্রগতিশীল, মানবিক ও সাংস্কৃতিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সর্বদা আপসহীন ও সোচ্চার থাকবে।

