ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাসহ সব আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে এখনই দেশে ফেরা সম্ভব না হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফেরার চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত সাকিব এ কথা বলেন। সেখানে তিনি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলছেন।
সাকিব জানান, তিনি যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফিরতে চান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব না হলে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করা শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজের ‘অধিনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, “অধিনায়ক যা বলেন, আমরা তাই অনুসরণ করি। আমি মনে করি, তারা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা মেনে চলব।”
ফোনে রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, সরকার যদি তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আদালতের বিচারসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।”
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সাকিবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এর মধ্যেই তার নতুন এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা হয়েছে, যা তাদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

