নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা :
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে মাহি (৩৫) নামে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) এক ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলেও প্রধান অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন। রাত ৯টায় বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫) বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সকাল ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় মাহির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন একই সম্প্রদায়ের জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির। মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা মাহিকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, বুড়িচং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জায়গায় বেশ কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিহত মাহিও এর আগে মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন। সম্প্রতি মাদকের টাকার ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক বাদী হয়ে আজ বিকেল ৫টায় তিনজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দোলা (২৭) নামে তৃতীয় লিঙ্গের একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত দোলা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ঘোষগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
তবে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম আপন (পিতা: জাফর আলী, ময়নামতি) এখনো পলাতক রয়েছেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরসহ বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

