নিজস্ব প্রতিবেদন | ঢাকা —
দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার বর্তমানে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর কামরুন নাহার ডানা (ডানা ভাই জোস) এক বার্তায় জানান, কারিনা কায়সার হেপাটাইটিস এ এবং ই—এই দুটি ভাইরাসে একসাথে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘কো-ইনফেকশন’।
কো-ইনফেকশন কী এবং কেন হয়?
হেপাটাইটিস এ এবং ই মূলত ফেকো-ওরাল (feco-oral) রুটে ছড়ায়। অর্থাৎ, দূষিত খাবার, জীবাণুযুক্ত পানি এবং অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই ভাইরাস দুটি মানবদেহে প্রবেশ করে। যখন কোনো ব্যক্তি একই সময়ে এই দুটি ভিন্ন ভাইরাসে সংক্রমিত হন, তখন তাকে ‘কো-ইনফেকশন’ বলা হয়।
ঝুঁকির মাত্রা ও লিভার ফেইলিওর
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস এ এবং ই সাধারণত অ্যাকিউট সংক্রমণ ঘটায়। এর অর্থ হলো, কোনো দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ ছাড়াই এই ভাইরাস হঠাৎ করে লিভারে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- একক সংক্রমণ: যদি কোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হন, তবে লিভার ফেইলিওরের সম্ভাবনা থাকে ৯ শতাংশের নিচে।
- কো-ইনফেকশন: দুটি ভাইরাসে একসাথে আক্রান্ত হলে লিভার ফেইলিওরের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়, যা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই চরম অবনতির কারণেই রোগীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
পরিসংখ্যান: বাংলাদেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষাপট
উন্নত দেশগুলোতে হেপাটাইটিসের কো-ইনফেকশন বিরল হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে এটি অত্যন্ত সাধারণ ও উদ্বেগজনক চিত্র। একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| দেশ | কো-ইনফেকশনের হার (হেপাটাইটিস রোগীদের মধ্যে) |
|---|---|
| ভারত | ১.৩% থেকে ২% |
| মিশর | প্রায় ২৬% |
| বাংলাদেশ | প্রায় ২৬% |
চিকিৎসা ও সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, কো-ইনফেকশনের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি। অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাস্তাঘাটের খোলা খাবার ও দূষিত পানি পরিহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কারিনা কায়সারের এই অসুস্থতা দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে। যথাযথ স্যানিটেশন এবং বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করাই এই প্রাণঘাতী কো-ইনফেকশন থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।

