নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাস্তবায়িত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাতারে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করল।
এই মেগা প্রকল্পটি শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী ভিত্তি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর, তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এটি প্রায় ৯০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম থাকবে। অর্থাৎ, শেখ হাসিনার বাস্তবায়িত এই প্রকল্প আগামী কয়েক প্রজন্মের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর জ্বালানি সক্ষমতা। একবার জ্বালানি লোড করা হলে টানা প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এরপর সম্পূর্ণ জ্বালানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না; মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি প্রতিস্থাপন করলেই কেন্দ্রটি পুনরায় চালু রাখা যাবে। ফলে তেল বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ঘনঘন জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন পড়বে না।
প্রথম ইউনিটের ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুল্লিতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল স্থাপন করা হবে। পুরো স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘোরানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাশিয়া-র আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই বৃহৎ প্রকল্প। মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য।

