ক্রীড়া প্রতিবেদক :
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও মর্যাদাপূর্ণ সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যেখানে সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার আর দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের মিলনমেলা হওয়ার কথা, সেখানে এক ‘অপ্রত্যাশিত’ মুখ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি রুবাবা দৌলা।
ক্রিকেটের ব্যাট-বলের সাথে যার কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই, তিনি কীভাবে দেশের ক্রিকেটের নীতিনির্ধারক অর্থাৎ পরিচালক পদে আসীন হলেন—সেই প্রশ্ন এখন তুঙ্গে।
অভিযোগের আঙুল সরাসরি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে; বলা হচ্ছে, স্রেফ ‘ঘনিষ্ঠতা’ আর ‘পুরস্কার’ হিসেবেই তাকে এই ভিআইপি চেয়ারটি উপহার দেওয়া হয়েছে।
বিসিবির পরিচালক পদের জন্য প্রয়োজন ক্রিকেটীয় অবকাঠামো বোঝা এবং দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা। অথচ রুবাবা দৌলার পুরো ক্যারিয়ারই করপোরেট এসিরুমে ব্র্যান্ডিং আর মার্কেটিংয়ের ঘেরাটোপে বন্দি।
ড. ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ কাজের সুবাদে তিনি মূলত ইউনূস বলয়ের একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধি হিসেবেই পরিচিত। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, শত শত সাবেক যোগ্য ক্রিকেটারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রুবাবা দৌলাকে বোর্ডে আনা বিসিবির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রুবাবা দৌলার পেশাদার জীবনের প্রতিটি বড় বাঁক ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার ক্যারিয়ার প্রোফাইল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গ্রামীণফোনের শুরু (১৯৯৮-২০০৬): ড. ইউনূসের বাণিজ্যিক কাঠামোর ভেতর থেকেই তার উত্থান।
গ্রামীণফোনের হেড অব ব্র্যান্ডস এবং চিফ কমিউনিকেশনস অফিসার হিসেবে ড. ইউনূসের অত্যন্ত আস্থভাজন হয়ে কাজ করেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, যিনি সিম কার্ড বিক্রি আর ব্র্যান্ড প্রমোশন নিয়ে ক্যারিয়ার পার করেছেন, তিনি ক্রিকেটের জটিল মারপ্যাঁচ আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কীভাবে সাজাবেন?
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি কোনো সাধারণ নিয়োগ নয়, বরং বিসিবিকে ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহারের ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ’।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার বলেন,”আমরা সারাজীবন মাঠে রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছি ক্রিকেটের জন্য। আর এখন দেখছি, ক্রিকেটীয় ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যতা থাকলেই বোর্ডের নীতিনির্ধারক হওয়া যায়। এটি আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত।”
দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থায় এই ‘নাটকীয় এন্ট্রি’ শেষ পর্যন্ত বিসিবিকে কোথায় নিয়ে ঠেকাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ক্রিকেট কি মাঠের মানুষের হাতে থাকবে, নাকি করপোরেট প্রভাবে হারিয়ে যাবে—এই উদ্বেগে এখন সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা।

