নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক মা মগদ্বেশ্বরী মন্দিরে এক দুর্ধর্ষ চুরি ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে বুড়ির দোকান সংলগ্ন এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গভীর রাতে একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত মন্দিরে প্রবেশ করে তান্ডব চালায়। দুর্বৃত্তদের হামলার ভয়াবহতা ছিল নিম্নরূপ:
• বিগ্রহ অবমাননা: মা মগদ্বেশ্বরীর বিগ্রহের হাত, পা এবং জিহ্বা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
• লুটপাট: প্রতিমার গায়ে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার এবং কাপড় লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
• সংযোগ বিচ্ছিন্ন: চুরির সময় যাতে আলো না থাকে, সেজন্য মন্দিরের বাইরের বৈদ্যুতিক মিটারের তার কেটে দেয় হামলাকারীরা।
শিব মন্দিরে হামলা: প্রধান মন্দিরের পাশাপাশি পাশের শিব মন্দিরেও ভাঙচুর চালানো হয়। আসবাবপত্র তছনছ করার পাশাপাশি ভেতরের ধর্মীয় ছবিগুলো নিয়ে পাশের বিলে ফেলে দেয় তারা।
আজ ১০ এপ্রিল, শুক্রবার সকালে মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্ত্তী নিত্যপূজা দিতে এসে দৃশ্যটি প্রথম প্রত্যক্ষ করেন। মন্দিরের লণ্ডভণ্ড অবস্থা দেখে তিনি স্থানীয়দের খবর দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়।
জাগো হিন্দু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব কান্তি চৌধুরী বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় এর আগে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কখনও ঘটেনি। আমরা এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
খবর পাওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন জানান: পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়ায় এমন ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত উস্কানি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

