নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর উপজেলায় জমির মালিকানা দাবি ও চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ মো. আবদুল হাই (৭৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আবদুল হাইসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছিলেন।
নিহত আবদুল হাইয়ের ছেলে মো. সুমনের ভাষ্যমতে, প্রায় এক বছর আগে তারা স্থানীয় রেজাউল হকের কাছ থেকে ১.৩৮ শতাংশ জমি কিনে ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী বাধা দেন এবং জমিটি তার মামার বলে দাবি করেন। এ নিয়ে স্থানীয় সালিশে লিটন চৌধুরী কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে দোকানঘর নির্মাণের জন্য তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
সুমন অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এবং সালিশের নির্ধারিত সময় পার হওয়ায় গত মঙ্গলবার সকালে দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করলে লিটন চৌধুরীর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা আবদুল হাইকে মারধর করে পোলের ওপর থেকে খালে ফেলে দেয়। এছাড়া সুমনের অন্য দুই ভাইকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবদুল হাইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা লিটন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহিম রিজভী জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা সালিশ বাণিজ্যের স্থান নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে লিটন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর তারা শুনেছেন। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। নিহতের পরিবার মামলা করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

