“স্বজনপ্রীতির ছায়ায় ক্রিকেট?”—বিএনপি নেতাদের পরিবারের সদস্যদের পদায়নে সমালোচনার ঝড়
ঢাকা অফিস :
দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নবগঠিত এডহক কমিটি ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে সরব হয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমী, বিশ্লেষক এবং ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে গঠন করা হয়েছে এই কমিটি—যা অনেকের কাছে “নেপোটিজমের প্রকৃষ্ট উদাহরণ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া কয়েকজন সদস্যকে ঘিরেই মূল বিতর্ক—
ইসরাফিল খসরু—আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর ছেলে
মির্জা ইয়াসির আব্বাস—মির্জা আব্বাস-এর ছেলে
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম—প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী
সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ—সালাউদ্দিন আহমেদ-এর ছেলে
এই নিয়োগগুলোকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—যোগ্যতা নাকি রাজনৈতিক পরিচয়, কোনটি ছিল মূল বিবেচ্য?
ক্রীড়া বিশ্লেষক ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মতে, বিসিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব ও স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অনেকেই বলছেন—
“ক্রিকেট বোর্ড কি এখন রাজনৈতিক পরিবারের সম্প্রসারিত রূপ?”
“যেখানে মাঠের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে প্রশাসনে কেন রাজনৈতিক পরিচয়?”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই লিখছেন—
“বিসিবিকেও দলীয়করণের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে”
ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, কমিটিতে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক সম্পর্কই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
এত সমালোচনার মধ্যেও এখন পর্যন্ত বিসিবি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি। এই নীরবতা বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি বাড়তে থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়—এটি কোটি মানুষের আবেগ। সেই জায়গায় যদি স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে স্বজনপ্রীতি প্রাধান্য পায়, তবে প্রশ্ন উঠবেই—ক্রিকেট কি তবে রাজনীতির ছায়াতেই বন্দী হয়ে পড়ছে?

