অন্ধকারে কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ১৯ ঘণ্টার ‘নরকযন্ত্রণা’য় রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

সেবা পাওয়ার বদলে উল্টো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের প্রধান ভবন বিদ্যুৎহীন থাকায় থমকে গেছে চিকিৎসাসেবা। শ্বাসকষ্টের রোগীদের ছটফটানি আর পানির অভাবে শৌচাগারের উৎকট গন্ধে হাসপাতালজুড়ে এখন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি।

গত সোমবার বিকেল ৪টা থেকে হঠাৎ করেই হাসপাতালের প্রধান ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে প্যাথলজি বিভাগ—সবই এখন অচল।

 বিদ্যুৎ না থাকায় নেবুলাইজার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ছাবেদ আলীর মতো অনেক শ্বাসকষ্টের রোগী অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করছেন।

 এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষাসহ সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল সার্ভিস বন্ধ থাকায় রোগীরা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

পাম্প না চলায় ওয়ার্ডগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ। টয়লেটে পানি না থাকায় দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষের পক্ষেও সেখানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সীমাবদ্ধতাগুলো চোখে পড়ার মতো:

• মূল বিদ্যুৎ লাইন: সোমবার বিকেল থেকে বিকল, ইলেকট্রিশিয়ানরা ব্যর্থ।

• বিকল্প ব্যবস্থা (জেনারেটর): যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

• স্টাফ কোয়ার্টার অবাক করার মতো বিষয় হলো, মূল ভবন অন্ধকার থাকলেও কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ সচল। |

হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আশরাফুল আলম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় রোগ নির্ণয়ের কোনো কাজই করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সেবাপ্রার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দীন  বলেন, “সোমবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আমরা মেরামতের চেষ্টা করেছি। জেনারেটরটিও কাজ করছে না। আমরা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের খবর দিয়েছি। তারা এলে দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

মঙ্গলবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও বিদ্যুৎ না ফেরায় ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে ব্যাকআপ ব্যবস্থার এমন বেহাল দশা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটিই ফুটিয়ে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *