বাউফলে চাল কেলেঙ্কারি: জেলেদের প্রাপ্য থেকে উধাও ৬ টন, ধরা পড়তেই ‘ভুল স্বীকার’

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফলে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬ মেট্রিক টন চাল ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

 ঘটনাটি ধরা পড়ে জেলেদের সামনেই চালের বস্তা গণনার সময়—আর তখনই প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের ৯২১ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য মোট ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল। সে অনুযায়ী খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল উত্তোলন করা হয়।

কিন্তু বিতরণের আগে গণনায় চমকে ওঠেন সবাই—মজুদ পাওয়া যায় মাত্র ২ হাজার ২৬৪ বস্তা। অর্থাৎ ১৯২ বস্তা চাল উধাও, যার পরিমাণ ৫.৭৬ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজারদরে যার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তদারকি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন জানান, ওয়ার্ডভিত্তিক বস্তা আলাদা করার সময়ই ঘাটতিটি স্পষ্ট হয়। এ সময় উপস্থিত জেলেদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকেই সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চালের একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, “আমরা নির্ধারিত সব চালই বুঝে নিয়েছি। অতিরিক্ত ১৯২ বস্তা কোথায় গেল, তা আমাদের জানা নেই।”

অন্যদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার প্রকাশ্যে ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ভুল হয়ে গেছে, ভবিষ্যতে আর হবে না।” একই সঙ্গে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান—যা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল কোথায় গেল? এটি কি শুধুই ‘ভুল’, নাকি পরিকল্পিত আত্মসাৎ?

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাধারণ জনগণ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *