ডেস্ক রিপোর্ট | ২ এপ্রিল, ২০২৬.
আগস্ট ২০২৪-এ দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রাক্কালে ফ্রান্স থেকে ঢাকায় ফেরেন ইউনূস। ৭ আগস্ট কাকরাইলে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলার শুনানি শেষে, নিম্ন আদালতের দেওয়া ছয় মাসের কারাদণ্ড থেকে তিনি খালাস পান।পরদিন ৮ আগস্ট সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সেদিন রাতেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন তিনি।
এর পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি শুরু হয়।ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয়। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত তাঁদের ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা দেয়।
তবে আপিলের পর ৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল সেই রায় বাতিল করে দেন।এরপর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও বহু মামলা নিষ্পত্তি বা বাতিল হতে থাকে। গ্রামীণ গ্রুপের আইন উপদেষ্টার দাবি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মামলা হয়েছিল, যেগুলোর অধিকাংশই বিচারাধীন ছিল।উচ্চ আদালতে অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি হয় প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর।
এর মধ্যে দুদকের করা অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের একটি আলোচিত মামলাও ছিল, যা ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে আপিল বিভাগ সেই মামলার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়।এছাড়া ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্ট একদিনেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ছয়টি মামলা বাতিল করেন, যা পরে আপিল বিভাগ বহাল রাখেন।বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরপরই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

