ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
প্রতিদিন সকালে খবর খুললেই মনে হয় আমরা যেন এক অচেনা দেশে বাস করছি। নিষ্পাপ শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের খবর আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয় না এ যেন এক ভয়াবহ প্রবাহ। একটি ৬ বছরের শিশু, একটি ৭ বছরের শিশু, একটি ৪ বছরের শিশু এরা তো কোনো রাজনীতি বোঝে না, কোনো মতাদর্শ বোঝে না। তবুও তাদের শরীর ও জীবন আজ নির্মমতার শিকার।
প্রশ্ন উঠছে কেন এমন হচ্ছে? কেবল নৈতিক অবক্ষয় দিয়ে কি এই বিস্ফোরণ ব্যাখ্যা করা যায়? নাকি সমাজের গভীরে আরও অশুভ কিছু ঢুকে পড়েছে?
গত ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৭ বছরের একটি শিশু মেয়ে ধর্ষনের শিকার হয়ে গলা কাটা অবস্থায় একটি পার্ক থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রশ্ন হলো ৭ বছরের একটি শিশুর প্রতি কাদের যৌন আকর্ষণ জাগতে পারে?
শুধু কামনার বশবর্তী হয়ে কি একজন মানুষ এমন নৃশংস কাজ করতে পারে? তার ওপর আবার হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ধারালো অস্ত্র চালানো এবং তা অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়া এগুলো নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করে যে এটি কোনো সুস্থ, ধীর-স্থির ও জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের কাজ নয়। অনেকের ধারণা, এমন অপরাধী মারাত্মক কোনো মাদকে আসক্ত থাকতে পারে।
এর আগে রাজধানীর হাতিরঝিলের একটি পরিত্যক্ত ভবনে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। অনেকেই মনে করেন, সেটিও মাদকাসক্তদের কাজ।
আবার ঝিনাইদহে ৪ বছর বয়সী একটি শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে বস্তায় ভরে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার দিকে তাকালে কেউ কেউ মনে করেন, এটি শুধু নৈতিক অবক্ষয়ের ফল নয়; বরং মাদকের ভয়াবহ প্রভাবও এর পেছনে কাজ করতে পারে।
গত ২৪ শের জুলাই আন্দোলনের সময় নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা আছে। সেই সময়পশ্চিমা শয়তানবাদীদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে দেশের কিছু বিকারগ্রস্ত গোষ্ঠী কে প্রলুব্ধ করে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের যে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হয়েছে সেখানে আন্দোলন কারীদেরকে উত্তেজক মাদক বিশেষত অ্যামফিটামিন ও কেপ্টাগন –জাতীয় পদার্থ তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনকে তাতিয়ে রাখার জন্য।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, উত্তেজক মাদক মানুষের আচরণে ভয়াবহ পরিবর্তন আনতে পারে সহমর্মিতাবোধ কমিয়ে দেয়, ভয় কমায়, আগ্রাসন বাড়ায়। সেই সময়ে সরবারহ করা বিপুল পরিমাণ মাদক এখন দেশের অনেক মাদকসেবীদের কাছে রয়ে গেছে যা সেবন করে একদল বিকৃত নরপশুরা সমাজে ধারাবাহিক আগ্রাসনের থাবা বসাচ্ছে।
শিশুর প্রতি পাশবিক নির্যাতন কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি এমন এক মানসিক বিকৃতি, যেখানে মানুষ তার মানবিক সত্তা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এই বিকৃতি কি হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে এসেছে? নাকি মাদক, সহিংসতার সংস্কৃতি, অবাধ পর্নোগ্রাফি, বিচারহীনতা সব মিলেই এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে?
আমরা কাউকে দায়ী করে রাজনৈতিক লাভ তুলতে চাই না। কিন্তু প্রশ্ন তুলতে চাই। যদি রাজনৈতিক অস্থিরতার আড়ালে দেশে মাদকের স্রোত ঢুকে থাকে, যদি সেই স্রোত আজও তরুণদের গ্রাস করে থাকে তবে তার পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ তদন্ত হোক। ডোপ টেস্ট, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা অনুসন্ধান সবকিছু সামনে আসুক।
কারণ শিশুদের কান্না কোনো দলের নয়। তাদের রক্ত কোনো মতাদর্শের নয়।

