গোবিন্দগঞ্জে নিজ বাসায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

​গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাসা থেকে শামসুন্নাহার রুমা (৪৫) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চকগোবিন্দ বীজ অফিসের পেছনে তার নিজ বাসা থেকে এই নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শামসুন্নাহার রুমা তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং স্থানীয় সোলাইমান মাস্টারের মেয়ে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে দীর্ঘ সময় ধরে রুমার বাসার দরজা বন্ধ থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের মেঝেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিক্ষিকার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাকে হাত-পা বেঁধে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

​নিহতের স্বজনরা এই ঘটনাকে ‘নৃশংস ও ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন। তারা জানান, শামসুন্নাহার রুমার কারো সাথে কোনো শত্রুতা ছিল না। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

​ঘটনার খবর পেয়ে গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহ কুমার কুন্ড এবং গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে ইতিমধ্যে গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *