নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও ‘সাজানো ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী হোসনে আরা। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন যে, আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম তাকে ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ লিখিয়ে নিয়েছেন।
বিবৃতিতে হোসনে আরা জানান, গত নভেম্বর মাসে তার স্বামীর সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল, যা যে কোনো পরিবারে হতে পারে। কিন্তু কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এই বিষয়টি জানতে পেরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তামিম তার বাসায় আসেন। হোসনে আরার দাবি অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম ভবনের নিচে অবস্থান করেন এবং তামিম সাহেব ঘরে ঢুকে তাকে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে প্ররোচনা দেন। তিনি প্রথমে রাজি না হওয়া সত্ত্বেও তাকে বোঝানো হয় যে, এই অভিযোগ দিলে তার স্বামী তাকে সারাজীবন সমীহ করে চলবে ও ভয়ে থাকবে। এরপর তামিম সাহেব তার মন মতো একটি অভিযোগ লিখে নেন এবং হোসনে আরাকে দিয়ে সই করিয়ে নেন।
হোসনে আরা আরও উল্লেখ করেন, বিএম সুলতান মাহমুদ সম্প্রতি তাজুল ইসলাম ও তামিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। তারই প্রতিশোধ নিতে তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই পারিবারিক তুচ্ছ বিষয়টিকে পুঁজি করে তার স্বামীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তারা আইন উপদেষ্টা বরাবরও একটি চিঠি দিয়ে জঘন্য ও নোংরা কাজ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একসাথে সংসার করছেন জানিয়ে হোসনে আরা বলেন, “আমাদের মধ্যে এখন কোনো ঝামেলা নেই, বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটর আমাদের বাসায় ইফতারও করেছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে, কিন্তু সেটাকে পুঁজি করে যারা আমার স্বামীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চাচ্ছে, আমি তাদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” উল্লেখ্য, হোসনে আরা এখন আগের সেই অভিযোগকে পুরোপুরি বানোয়াট এবং চাপ প্রয়োগের ফল হিসেবে অভিহিত করছেন।

