নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এই তরুণ রাজনীতিবিদ তাঁর প্রথম সংসদীয় মেয়াদেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোট ৪৯ জন। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইশরাক হোসেনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী একদল সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি-৩২ ভাঙার ঘটনায় অংশ নেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। তাঁদের দাবি, যিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিতর্কের প্রেক্ষিতে ইশরাক হোসেনের দায়িত্ব ও অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দফতরে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

