দ্বৈত নাগরিক বলে প্রতিবাদ করা সেই খলিলুর রহমানকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানাচ্ছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি ২০২৪ সাল থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৪ সালে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিএনপি তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ তোলে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে তার উপযুক্ততা নিয়ে আপত্তি জানায়। সেই সময় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
কিন্তু এখন একই ব্যক্তিকে দেশের পররাষ্ট্র নীতির দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্তকে অনেকেই বিএনপির অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে তাহলে আগের আপত্তি কি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল ছিল, নাকি পরিস্থিতির পরিবর্তনে অবস্থান বদলেছে দলটি?
ড. খলিলুর রহমান একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক; দীর্ঘদিন পররাষ্ট্র ক্যাডারে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে তার নিয়োগকে কেউ কেউ পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখছেন।
তবে বৃহত্তর আলোচনার জায়গা হলো বিএনপি কি সত্যিই কোনো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক বলয়ের প্রভাবমুক্ত হয়ে সরকার গঠন করছে? জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলে বিদেশি প্রভাব ও সমঝোতার আলোচনা ছিল। সেই বাস্তবতায় নতুন সরকারের সিদ্ধান্তগুলো কতটা স্বাধীন নীতিনির্ভর, আর কতটা সমীকরণভিত্তিক এ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে খলিলুর রহমানের নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বিএনপির আগের অবস্থান, বর্তমান কৌশল এবং ক্ষমতার পেছনের বাস্তব সমীকরণ সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সময়ই বলে দেবে, এই সিদ্ধান্ত নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি রাজনৈতিক দ্বৈততার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *