ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: পাইপলাইনের জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য পূর্বঘোষিত সময় ছিল ১৪ ঘণ্টা। কিন্তু বাস্তবে তা গড়ায় ২৬ ঘণ্টারও বেশি সময়ে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অব্যবস্থাপনায় টানা এক দিনেরও বেশি সময় ধরে গ্যাসহীন অবস্থায় কাটিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, সদর ও সরাইল উপজেলার প্রায় ২৩ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক। সোমবার বিকেলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও, গ্যাস ফিরেছে আজ বুধবার সকাল ১০টার পর।
চুলো জ্বলেনি হাজারও রান্নাঘরে, চিড়া খেয়ে কর্মস্থলে শিক্ষক
গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার রাত ১০টায় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন গৃহিণীরা। রাতে রান্নাবান্না শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও গ্যাস না আসায় পুরো পরিবারকে থাকতে হয়েছে অনাহারে বা বিকল্প উপায়ে। বাইরের হোটেলগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়ের কারণে মেলেনি সকালের নাশতা। সরাইলের পাঠানপাড়ার কলেজশিক্ষক ছাকিয়া বেগম আক্ষেপ করে জানান, সিডিউল মেনে গ্যাস না দেওয়ায় এবং আগাম কোনো তথ্য না থাকায় সকালে বাধ্য হয়ে চিড়া খেয়ে তাঁকে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হতে হয়েছে।
সিএনজি পাম্পে মাইলজোড়া লাইন, চালকদের দুদিনের আয় বন্ধ
আবাসিক সংকটের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। মঙ্গলবার রাত থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছিল গাড়ির দীর্ঘ লাইন। সারারাত অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে অনেককে। অটোরিকশাচালক সাব্বির মিয়ার মতে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এবং কাজ না করতে পেরে টানা দুই দিনের উপার্জন হারিয়েছেন তারা।
আগাম ঘোষণা ছাড়াই এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
