নিজস্ব প্রতিবেদক, বাউফল:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত দুর্গম চরে ঘাসে বিষক্রিয়ায় ৩০টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৩টি মহিষ মারা গেছে এবং বাকি ২৭টির অবস্থা আশঙ্কাজনক। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচরে চাঁদা আদায় কেন্দ্র করে ঘাসে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর মাঠে চড়াতে যাওয়া ঘাস ও খাদ্যে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী খামারিরা জানান, চরাঞ্চলের সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা কোনো খরচ ছাড়াই মহিষ চড়াতেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় সাবেক এক ছাত্রদল নেতা মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে চরে মহিষ চড়াতে প্রতি মহিষের জন্য মাসে ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে মহিষ ঘাস খেতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে খামারিদের চরের ৪৭৮টি মহিষের জন্য মাসে ৯৫ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছিল, যা তাদের চরম লোকসানের মুখে ফেলে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ছাত্রদল নেতা মাইনুদ্দিন চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি, জেলেদের মাছ ধরার ‘চাই’ ভেঙে ফেলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে সালিশের মাধ্যমে ওই টাকা নেওয়া ও জমা রাখা হয়েছিল। তবে মহিষ পালকরা এই দাবি অস্বীকার করে জানান, জেলেদের সাথে তাদের কোনো বিরোধ বা ক্ষতিপূরণের বিষয় ঘটেনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন জানান, চাঁদা তোলার জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর নমুনা সংগ্রহ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
