নিজস্ব প্রতিনিধি :
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কিছু কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি-র।
- জাপানের নাগরিক ও আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়ে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শীর্ষক একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর আগেও সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খানসহ আইসিসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল।
- এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এই দুই কর্মকর্তার নামে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপরই আদালতের ওপর মার্কিন চাপ তীব্র হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন যে, আকানে ও সেয়ে এমন সব কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি—এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এর আগে আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম জাপানি নাগরিক তোমোকো আকানে শুরু থেকেই এই নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের বাহ্যিক চাপ বিচারকদের দায়িত্ব পালনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই তাদের মূল ভিত্তি এবং তা সর্বদা অটুট থাকবে।
