নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের লোডশেডিং—এর সঙ্গে এবার নতুন করে তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন রাজধানীর অনেক এলাকার বাসিন্দারা। গত সাত দিন ধরে দিনের কোনো সময়েই এক ফোঁটা পানিও না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। ফলে তীব্র গরম ও মশার উৎপাতের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটর চালিয়েও পানি না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী ওই বাসিন্দা জানান, গত সাত দিন ধরে তাদের এলাকায় কোনো সময়েই পানি আসছে না। বিদ্যুৎ যখন আসে, তখন পানি পাওয়ার আশায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত মোটর চালিয়ে সিঁড়িঘরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় মোটর চালিয়েও মিলছে না পানি।
তিনি বলেন, ‘এই গরমের মধ্যে, তার ওপর মশার উৎপাত। বিদ্যুৎ এলে পানি পাওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটর ছেড়ে দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু কোনো পানি পাই না। গত সাত দিন ঠিকমতো ঘুমাতেও পারিনি। শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’
শুধু সাম্প্রতিক সাত দিনের সংকট নয়, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই নিয়মিত পানি না থাকার অভিযোগ রয়েছে এলাকাটিতে। ওই বাসিন্দার দাবি, মার্চ থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত পানি পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে তীব্র লোডশেডিং ও গ্যাস সংকট। ফলে নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় একের পর এক সংকট তৈরি হয়েছে।
দেশজুড়েও বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে পানি সরবরাহের সংকটের সম্পর্কও নতুন নয়। অতীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে ওয়াসার পাম্প প্রয়োজনীয় সময় চালানো না যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পানি সংকট এখন পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের পর এবার পানির জন্যও যদি দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে নাগরিক জীবনের মৌলিক সেবাগুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি পরিদর্শন করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিক। একই সঙ্গে কেন নিয়মিতভাবে মাসের অর্ধেকের কাছাকাছি সময় পানি পাওয়া যাচ্ছে না, তার কারণও খুঁজে বের করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
