কুয়ালালামপুর, ৯ জুলাই ২০২৬: মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। বিশেষ ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ইতিমধ্যেই ১১২টি দেশের মোট ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৩ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকইয়াতে স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী শামছুল আনোয়ার নাসারাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশেষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯১ জন বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সিংহভাগেরই নিজ দেশে প্রত্যাবাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উপমন্ত্রী সংসদে জানান, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫ হাজার ৪৭০টি অভিবাসনবিষয়ক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৬ হাজার ৬০৮ জনের কাগজপত্র ও বৈধতা যাচাই করা হয়।

বিদেশিদের বসবাসের ঘনত্ব নিয়ে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাকেন্দ্র, পাইকারি বাজার এবং আবাসিক এলাকায় ২ হাজার ৫২৮টি পরিদর্শন চালানো হয়েছে।

এছাড়াও, অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে মালয়েশিয়ার পুলিশ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে ৪৭০টি সমন্বিত অভিযান এবং বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম ঠেকাতে আরও ৭১টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

সংসদীয় অধিবেশনে অভিবাসন সংকটের পাশাপাশি মালয়েশীয় পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। পুলিশের ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস কমপ্লায়েন্স বিভাগের তথ্যানুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ২০২৩ সালে যেখানে মামলা ছিল ৩৭৮টি, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০৭টিতে এবং ২০২৫ সালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬৩টিতে পৌঁছায়।

একই সাথে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও। ২০২৩ সালে ১২টি এবং ২০২৪ সালে ১৩টি মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হলেও, ২০২৫ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২২টিতে দাঁড়ায়।

এদিকে, ইন্ডিপেনডেন্ট পুলিশ কন্ডাক্ট কমিশন (আইপিসিসি)-তে দায়ের হওয়া অভিযোগের সংখ্যা ২০২৩ সালের ১০০টি থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩৮৮টিতে পৌঁছেছে। তবে উপমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আইপিসিসি গঠনের পর অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি সহজ ও আধুনিক করায় এই পরিসংখ্যান বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত বিভাগের জবাবদিহিতারই অংশ।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রসঙ্গে শামছুল আনোয়ার নাসারাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ১৯৪৮ সালের রাষ্ট্রদ্রোহ (সেডিশন) আইন এখনও মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। উসকানিমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকলেই কেবল এ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে জাতিগত বিদ্বেষ, সহিংসতায় উসকানি, শত্রুতা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে— এমন বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেই কেবল এই আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version