নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রায় অর্ধেক নাগরিকই বর্তমানে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। একই সঙ্গে নিজেদের মূল্যবান সম্পদ, বসতবাড়ি এবং শারীরিক সুরক্ষা নিয়ে চরম উদ্বেগ কাজ করছে সাধারণ মানুষের মনে। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এই আতঙ্কের মাত্রা অনেক বেশি।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক জরিপে দেশের মানুষের নাগরিক অভিমতের এমন চিত্র উঠে এসেছে। ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে’ বা নাগরিক অভিমত শীর্ষক এই জরিপটি গত ফেব্রুয়ারি মাসে পরিচালনা করা হয় এবং এর প্রতিবেদনটি গত ১৯ জুন প্রকাশ করা হয়েছে।
জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের মনে নানা ধরনের আতঙ্ক ও আশঙ্কা কাজ করছে। দেশের প্রায় ৪৭.১৭% নাগরিক সবসময় মূল্যবান সম্পদ চুরির আতঙ্কে থাকেন। গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের চেয়ে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে এই ভয় তুলনামূলক বেশি। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের মধ্যে ৪১.৭৪% মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়ার বা ভাঙচুরের আশঙ্কায় ভুগছেন এবং প্রায় ৩৩.৯১% নাগরিক যেকোনো সময় শারীরিক হামলার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জরিপ অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেক বেশি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দেশের প্রায় অর্ধেক নারী ( can be rounded as প্রায় ৫০ শতাংশ) তাদের মূল্যবান সম্পদ খোয়ানোর সার্বক্ষণিক উদ্বেগে থাকেন। এছাড়া শারীরিক আঘাত পাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ৩৪ শতাংশ মানুষ।
জরিপের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বিবিএসের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) রাশেদ-ই মাসতাহাব জানান, এটি সম্পূর্ণ নাগরিক অভিমতের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যে তথ্য দিয়েছে, আমরা কেবল সেটাই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি। এখানে আমাদের নিজস্ব কোনো মতামত বা মন্তব্য নেই।”
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম ভেঙে পড়েছিল এবং এক ধরনের নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই বেসামাল পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, মানুষের মন থেকে এখনো আতঙ্ক পুরোপুরি দূর হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, नाগরিকদের মনে পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনতে দেশে পরিপূর্ণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কঠোরহস্তে বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
