ঢাকা, ০১ জুলাই ২০২৬:
জুলাই মাসের শুরু থেকেই দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব ও বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই অনলাইন ট্রেন্ডে ফেসবুকের নিউজফিড যেন দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে প্রোফাইল পিকচার লাল করছেন এবং তৎকালীন ঘটনার পক্ষে নানা পোস্ট দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, এই পক্ষীয় পোস্টগুলোতে দেখা যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ ‘হা হা’ রিয়্যাকশন এবং তীব্র নেতিবাচক মন্তব্যের ঝড়। এমনকি দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর ফেসবুক পেজে জুলাই কেন্দ্রিক সংবাদের নিচেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
এই পাল্টা-পাল্টি অবস্থান এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণ নিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং সংশ্লিষ্টদের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
যাঁরা গত বছরের আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন, সেই জুলাই যোদ্ধারা এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি সাবেক ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের অনুসারীদের দায়ী করছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়া একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে এই ‘হা হা’ রিয়্যাকশন বা ট্রল ছড়াচ্ছে।
আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে এবং সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলতে ফেক আইডি ও পেইড বটের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
তবে এর বিপরীত এক ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে সাধারণ নেটিজেন ও আমজনতার একাংশের কণ্ঠে।
সাধারণ মানুষের বড় একটা অংশের মতে, এই হাসাহাসি বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই, বরং এটি গত এক বছরে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলন সাধারণ মানুষের মনে যে বিশাল আকাশচুম্বী প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছিল, বাস্তব ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকট এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ভোগান্তি জুলাইয়ের অর্জনকে সাধারণের চোখে ম্লান করে দিয়েছে। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই মানুষ এখন জুলাই কেন্দ্রিক যেকোনো পোস্টকে উপহাস বা ক্ষোভের চোখে দেখছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই ভার্চুয়াল যুদ্ধ এখন আর শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রূপ নিয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক জীবন্ত দলিলে।
একদিকে আন্দোলনের চেতনা টিকিয়ে রাখার লড়াই, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের চরম বাস্তবতার এই সংঘাত আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
