নিজস্ব প্রতিনিধি :

দেশজুড়ে নানামুখী আলোচনা, সমালোচনা আর বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার আবহেই হঠাৎ এক সংক্ষিপ্ত সফরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

আজ বুধবার (২৭ মে) ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই ‘আকস্মিক’ দেশত্যাগ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

বিমানবন্দরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দুপুরের দিকে ড. ইউনূসের দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, সাবেক সরকার প্রধান হিসেবে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যথোপযুক্ত সম্মান ও পূর্ণ ভিআইপি (VIP) মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে সরাসরি প্যারিসের কোনো ফ্লাইট না থাকায় ড. ইউনূসকে বহনকারী বিমানটি প্রথমে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবতরণ করবে। সেখানে ট্রানজিট নিয়ে পরবর্তী কানেক্টিং ফ্লাইটে তাঁর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টার প্যারিস সফরের খবর নিশ্চিত হওয়া গেলেও, তিনি ঠিক কী কারণে বা কতদিনের জন্য এই সফরে যাচ্ছেন—সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্রই তাঁর এই সফরের মূল এজেন্ডা বা উদ্দেশ্য নিয়ে মুখ খোলেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে একাধিক অভিযোগ ওঠার পর এই সফরকে অনেকেই ‘উদ্বেগজনক’ ও ‘রহস্যময়’ বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চাপ এড়াতেই কি এই আকস্মিক বিদেশ যাত্রা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক কোনো লবিং বা বিশেষ এজেন্ডা?

এই সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মনেও কৌতুহলের শেষ নেই। এটি কি কেবলই পূর্বনির্ধারিত কোনো সংক্ষিপ্ত সফর, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো সমীকরণ—তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ড. ইউনূসের কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এই আলোচনা ও সমালোচনার পারদ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave A Reply

Exit mobile version