নিজস্ব প্রতিবেদন
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে একটি কোরবানির পশুর হাটের বরাদ্দ চেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ‘জুলাই যোদ্ধারা’। হাট পরিচালনার অনুমতি না পাওয়া, প্রশাসনিক হয়রানি, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং হামলা-ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়। এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি কোরবানির পশুর হাট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এ লক্ষ্যে জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশপত্র দেন। কিন্তু সেই সুপারিশপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা সাক্ষাৎ পাননি। পরবর্তীতে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আশ্বাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গেলেও সেখানে একই ধরনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।লিখিত বক্তব্যে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ইউএনও কার্যালয়ের বাইরে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি আগে থেকেই তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল।
পরে ইউএনও’র সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, প্রশাসনের প্রাথমিক আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ও সংগৃহীত ফান্ড হাটের প্রস্তুতিমূলক কাজে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা হাটের কাজে বাধা দেন।
এরই সুযোগে চাঁদা দাবিকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে হাটের ব্যানার, সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।আহত জুলাই যোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, আজ সেই স্বাধীন দেশে আন্দোলনের যোদ্ধারাই অপমান, হয়রানি ও চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন, নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক কাউছার আহমেদ সুমন, সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও মো. আল আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
