নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে প্রায় এক দশক আগে ৬টি মহানগরে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালগুলো এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকলেও, বর্তমান প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে ১ হাজার ৫০টি শয্যা এবং জীবন রক্ষাকারী এনআইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

অবকাঠামো প্রস্তুত, সদিচ্ছার অভাব।

শেখ হাসিনা সরকার রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট এবং চট্টগ্রামে এই বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর নির্মাণকাজ সফলভাবে শেষ করে। তবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এক হতাশাজনক চিত্র: রংপুর ছাড়া বাকি ৫টি অচল।

শুধুমাত্র রংপুর ছাড়া অন্য কোনো মহানগরে এই স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।

আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অর্থ বরাদ্দের অভাবে ভবনগুলো স্বাস্থ্য বিভাগ বুঝে নিচ্ছে না। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় চুরির ঘটনাও ঘটছে।

 এই হাসপাতালগুলোতে আধুনিক এনআইসিইউ (NICU) সুবিধাসহ মোট ১,০৫০টি শয্যা রয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

শেখ হাসিনার শাসনকালে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছিল বহুমুখী পদক্ষেপ। বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালগুলো ছিল সেই দূরদর্শী চিন্তার ফসল।

“শেখ হাসিনা সব প্রস্তুত করে দিয়ে গেছেন, কিন্তু বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরা শুধু সেবাটি চালু করার ন্যূনতম যোগ্যতাও দেখাতে পারছেন না।”

বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে এবং সাধারণ হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের তিল ধারণের জায়গা নেই। যদি এই ৬টি বিশেষায়িত হাসপাতাল সচল থাকতো, তবে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর রোগীরাও ঘরের কাছে উন্নত চিকিৎসা পেত। 

শেখ হাসিনার মমত্ববোধ ও দূরদর্শিতা যেখানে একটি সুস্থ প্রজন্মের স্বপ্ন দেখেছিল, সেখানে বর্তমান প্রশাসনের ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলছে।

বর্তমান প্রশাসনের দেড় বছর এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৩ মাস পার হলেও জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এই সম্পদগুলো কেন সচল হচ্ছে না, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শেখ হাসিনার মিশন-ভিশন ছিল আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলো ফেলে রাখা দেশের চিকিৎসা খাতের জন্য এক বড় ক্ষতি।

শেখ হাসিনার হাতে গড়া এই বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো কেবল দালানকোঠা নয়, এগুলো ছিল অসুস্থ শিশুদের বাঁচার স্বপ্ন। দ্রুত এই হাসপাতালগুলো সচল করে জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

Leave A Reply

Exit mobile version