নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন আর এক মায়ের উৎকণ্ঠা নিয়ে ছুটে চলছিলেন শাহানা বেগম। কোলে ছিল সাত মাস বয়সী যমজ দুই কন্যা, খাদিজা ও ফাতেমা। স্বপ্ন ছিল দুজনকেই সুস্থ করে ঘরে ফেরাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় নির্মম বাস্তবতায়।


জ্বর, ঠান্ডা ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে এপ্রিলের শুরুতে অসুস্থ হয়ে পড়ে দুই শিশু। প্রথমে নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থার অবনতি হলে পরিবার তাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। কিন্তু রাজধানীর একের পর এক হাসপাতালে ঘুরেও সহজে মেলে না সিট, অক্সিজেন বা পিআইসিইউ সুবিধা। কখনো বলা হয়েছে বেড নেই, কখনো অক্সিজেন সংকট, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র খালি নেই।
অবশেষে অনেক চেষ্টায় দুই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও একদিন পরই ফাতেমাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। তখন এক শিশুকে হাসপাতালে রেখে আরেকজনকে বাড়িতে দেখভাল করার কঠিন বাস্তবতায় পড়ে পরিবার।


বাড়ি ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে ফাতেমা। শুরু হয় নতুন করে হাসপাতাল খোঁজার লড়াই। বিভিন্ন সময়ে তাকে একেকবার একেক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়—কখনো হাম, কখনো ডেঙ্গু সন্দেহে। তবে চিকিৎসকেরাও নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফাতেমা। অন্যদিকে যমজ বোন খাদিজা বেঁচে ফিরলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয়; জ্বর-কাশির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সে।
শোকাহত মা শাহানা বেগম বলেন, “কল্পনাও করি নাই, ফাতেমা মারা যাবে। হাসপাতালে থেকেও হাসত, খেলনা নিয়ে খেলত।”
এক মেয়েকে হারানোর বেদনা আরেক মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে এক মায়ের জীবনে এখন সেটিই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

Leave A Reply

Exit mobile version