নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর এই আবেদন দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি দেশে হামের প্রকোপে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট থাকা সত্ত্বেও সময়মতো টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার।
আবেদনে বলা হয়, কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই টিকা ক্রয়ের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যার ফলে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন টিকা কেনা সম্ভব হলো না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এবং এর পেছনে দুর্নীতির ইঙ্গিত রয়েছে। সময়মতো সিরিঞ্জ ও টিকা সংগ্রহ না করার বিষয়টি কেন গোপন রাখা হলো এবং শিশুদের মৃত্যুর দায়ভার কেন এড়ানো যাবে না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ বলেন, “রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা ব্যথিত। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সংকটের জন্য সরাসরি সাবেক সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। হাজার হাজার শিশু আজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই সংকটের পেছনে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি আছে কি না, তা বের করা দুদকের নৈতিক দায়িত্ব।”
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি যা বর্তমানে মহামারি আকার ধারণ করছে। পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাবে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের এই চরম বিপর্যয়কে বিগত সরকারের অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির ফল হিসেবে দেখছেন অভিযোগকারীরা।
দুদক সচিবের কার্যালয় থেকে আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটি এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

