Headlines

মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস: এলপিজি গ্যাসের বাড়তি দামে তছনছ মাসিক বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রাতের আঁধারে রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় হন্যে হয়ে দোকান খুঁজছিলেন চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক। কয়েক দোকান ঘোরার পর ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার মিলল ঠিকই, কিন্তু দাম শুনে তাঁর চোখ কপালে ওঠার দশা! সরকারিভাবে নির্ধারিত দাম ১,৭২৮ টাকা হলেও বিক্রেতা চাইলেন ২,০০০ টাকা। নিরুপায় ফারুক বাড়তি ২৭২ টাকা গুনেই সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।

এটি কেবল ফারুকের একার গল্প নয়; পুরো চট্টগ্রামজুড়ে এলপিজি গ্যাসের বাজারে এখন চরম অস্থিরতা। গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন দাম ঘোষণা করলেও সাধারণ মানুষের কপালে সেই স্বস্তি জোটেনি।

নগরের হিলভিউ, ষোলশহর ও পলিটেকনিক্যাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দামের বিশাল ফারাক:

ব্র্যান্ডের নাম ও খুচরা বিক্রয়মূল্য: (টাকা) সরকারি নির্ধারিত দাম ও অতিরিক্ত আদায়:

 • ওমেরা: ২,১০০ টাকা যার সরকারি দাম, ১,৭২৮ টাকা | অতিরিক্ত আদায়, ৩৭২ টাকা।

 • বেক্সিমকো: ২,০৫০ টাকা | সরকারি দাম, ১,৭২৮ | অতিরিক্ত আদায়, ৩২২ টাকা।

 • ইউনিগ্যাস: ২,০০০ টাকা | সরকারি দাম, ১,৭২৮ টাকা | অতিরিক্ত আদায় ২৭২ টাকা।

 • বিএম: ১,৯০০ টাকা | সরকারি দাম, ১,৭২৮ টাকা | অতিরিক্ত আদায়, ১৭২ টাকা।

বাজারে অতিরিক্ত দামের কারণ খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল এক অদ্ভুত চক্র। খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে আমদানিকারক—সবাই দায় চাপাচ্ছেন একে অপরের ওপর।

ষোলশহরের খুচরা বিক্রেতা মো. সাহাব উদ্দিনের দাবি, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি না। পরিবেশকের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”

পরিবেশক মেসার্স মোহাম্মদীয়া ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আলী আজম জানান, জাহাজভাড়া ও আমদানি খরচ বাড়ার অজুহাতে কোম্পানিগুলো থেকেই ১,৮০০ থেকে ১,৯০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

এদিকে আমদানিকারকদের সংগঠন বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই সরবরাহ করছে এবং পরিবেশকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে।

চট্টগ্রাম মহানগর এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরস-ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “আমাদের হিসাব মিলছে না। কোম্পানি থেকে নির্ধারিত দামে গ্যাস না পেলে ১৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

স্থির আয়ের মানুষের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করা মাহবুব হাসানের মাসিক বাজেটে বাড়তি এই কয়েকশ টাকা বিশাল বড় চাপ। 

অন্যদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, সবাই একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল কতটুকু মিলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *