কুষ্টিয়ায় পীরকে কুপিয়ে হত্যা: নেপথ্যে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সাথে পুরোনো শত্রুতার অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | ১২ এপ্রিল, ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফের পীর ‘আব্দুর রহমান’ ওরফে শামীমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আমির হামজার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের একটি বড় অংশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে একটি ওয়াজ মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে পীর আব্দুর রহমানের সাথে আমির হামজার বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, আমির হামজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সেই পুরনো রেষারেষি নতুন মাত্রা পায়। দরবার শরীফ ও পীরকে কোণঠাসা করতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ষড়যন্ত্র চলছিল বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

গতকাল শনিবার তিন বছর আগের একটি পুরনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে ‘কোরআন অবমাননার’ ঠুনকো অজুহাত তুলে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দরবার শরীফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে একদল উত্তেজিত জনতা। এই অরাজক পরিস্থিতির মধ্যেই দরবারের ভেতরে ঢুকে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সবচাইতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে অনেক দেরিতে বিকেলের দিকে।

 উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

 কার নির্দেশে বা কোন অদৃশ্য চাপে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে দেরি করল—এখন এটাই কুষ্টিয়ার জনমনে প্রধান জিজ্ঞাসা।

“আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। কোরআন অবমাননার অভিযোগ উঠলে বিচার হবে আইনি প্রক্রিয়ায়। কিন্তু এভাবে একজন মানুষকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড কারা এবং কেন প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি, তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে এলাকাবাসী। এমপি আমির হামজা হোক কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি—আইন লঙ্ঘনকারী কাউকেই যেন ছাড় দেওয়া না হয়, এখন এটাই সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি।

উত্তপ্ত দৌলতপুরে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সত্য কি শেষ পর্যন্ত আড়ালেই থেকে যাবে, নাকি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে প্রকৃত অপরাধীরা? উত্তর খুঁজছে কুষ্টিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *