ডেস্ক রিপোর্ট :
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নাটকীয় রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনে কি ছিল একটি সুপরিকল্পিত অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র? এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে ভারতের নর্থ ইস্ট নিউজ-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে, যেখানে সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তার ‘গোপন ভূমিকা’র ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রহস্যজনকভাবে সক্রিয় ছিল একাধিক গ্রুপ। বিশেষ করে মিরপুর ও মহাখালী ডিওএইচএসে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের তিনটি দল একত্রিত হয়ে “এখনই সেনা সরকার চাই” স্লোগানে মিছিল করে। তাদের গতিবিধি ছিল অত্যন্ত কৌশলগত—ইসিবি স্কয়ার, জাহাঙ্গীর গেট ও বনানী ডিওএইচএসের দিকে আলাদা আলাদা অগ্রযাত্রা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য আসে ‘স্নাইপার জোন’ প্রসঙ্গে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কিছু জুনিয়র অফিসার ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্নাইপার হিসেবে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি এক পর্যায়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ারকে ফোন করে সতর্ক করা হয়—তিনি নাকি ‘স্নাইপার জোনে’ ঢুকে পড়েছেন!
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪ আগস্ট রাতেই রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ শুরু হয়। বিরোধী শিবিরের ঘনিষ্ঠ এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা সরাসরি সেনাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরদিন ক্যান্টনমেন্টে বৈঠক হয়। একই সময়ে বিদেশি সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গেও কথোপকথনের দাবি করা হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন, যা শুরু হয়েছিল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে—সেটিকেও প্রতিবেদনে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনের ভেতরে সংগঠিতভাবে ঢুকে পড়েছিল রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা, যারা নিজেদের ‘সাধারণ ছাত্র’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ—১৬ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় অজ্ঞাত স্নাইপারদের গুলিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুলি লেগেছে মাথার পেছনে। অথচ পুলিশের কাছে এমন অস্ত্র না থাকলেও দায় চাপানো হয় তাদের ওপর।
উত্তরা প্রবেশপথে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করে “কারফিউ নেই” ঘোষণা দেওয়া হয়—যা বাস্তবে কারফিউ চলাকালীন ছিল। এতে করে বিরোধী সমর্থকদের ঢাকায় প্রবেশ সহজ হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে, ঢাকার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সেনা ইউনিটগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়। এটিকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য: এসব তথ্য নর্থ ইস্ট নিউজ-এর একটি চলমান অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দাবি—যা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
পুরো বিষয়টি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—২০২৪ সালের সেই ঘটনাপ্রবাহ কি শুধুই গণআন্দোলন ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত শক্তির খেলা?

