তেলের লাইনে অপেক্ষাই হলো শেষ যাত্রা: রংপুরে তরুণ শিক্ষকের অকাল মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:

রংপুরে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মেহেদী হাসান (৩২) নামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক। শনিবার বিকেলে নগরীর পর্যটন মোটেল এলাকার সুরমা পেট্রোল পাম্পে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

তরুণ এই শিক্ষকের এমন আকস্মিক প্রস্থানে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও তার পরিবার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকেলে নিজের মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য পাম্পের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন মেহেদী হাসান। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পাম্পের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার মাহে আলম জানান: “তেল নেওয়ার অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।”

মেহেদী হাসান নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার মতিউর রহমানের সন্তান। তিনি শুধু একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকই ছিলেন না, বরং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের একজন মেধাবী প্রাক্তনী ছিলেন।

 বর্তমানে তিনি লাহিড়িরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  কর্মরত ছিলেন।

চিকিৎসকের ভাষ্য ও পুলিশি তৎপরতা

তাকে দ্রুত রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র গরম বা মানসিক চাপে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ করেছিলেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

একদিকে জ্বালানি সংকটের ভোগান্তি, অন্যদিকে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে একজন তরুণ শিক্ষকের এমন মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মী ও সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদী হাসানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।

একটি সাজানো সংসার আর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে তেলের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মেহেদী, কিন্তু সেই লাইন শেষ হলো হাসপাতালের হিমঘরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *