Headlines

রক্তাক্ত ইতিহাস ও বারবার হামলা: কেন কেড়ে নেওয়া হলো বঙ্গবন্ধু পরিবারের নিরাপত্তা?

ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য দলিল ‘জাতির পিতার পরিবারের সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন’। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর থেকে তাঁর উত্তরাধিকারীদের জীবন বারবার থমকে দাঁড়িয়েছে ঘাতকের বুলেটের সামনে।

১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্তত ২০ বার সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ১৯৮৮ সালের চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের হত্যাযজ্ঞ থেকে শুরু করে ২০০০ সালের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রাখা, কিংবা ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা—প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিহ্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র বারবার সক্রিয় হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রাণঘাতী হুমকির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই ২০০১ সালের ২১শে জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সংসদে জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা আইনটি পাশ করেছিল। তবে আইনটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক রশি টানাটানির শিকারে পরিণত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই তাদের প্রথম অধিবেশনে এটি বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আইনটি পুনঃস্থাপন করলেও ২০২৬ সালে এসে বর্তমান সরকার এটি আবারো বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

​এই বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের সচেতন মহলে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যে মহান নেতার আপোষহীন নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পেল, সেই জাতির পিতার পরিবারের প্রতি এই চরম প্রতিহিংসার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত না হলে আজ যারা পার্লামেন্টে বসে এই আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাদের অনেকেরই রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকত না। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের ওপর বারবার হওয়া হামলা এবং বিশেষ করে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরেও নিরাপত্তা আইন বাতিল করা তাঁদের জীবনকে আবারও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

রাষ্ট্রের কাছে সাধারণ মানুষের আজ একটাই প্রশ্ন—বঙ্গবন্ধুর অপরাধ কি শুধু এই জাতিকে মুক্ত করার নেতৃত্ব দেওয়া? যে নেতার কারণে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড ও পতাকা অর্জিত হলো, তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে বারবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তু বানানো জাতীয় ইতিহাসের জন্য এক চরম লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *