Headlines

“মুজিবনগর সরকার দিবস: স্বাধীনতার দলিলের সত্য বনাম বর্তমান সরকারের বিভ্রান্তিকর বয়ান”

আজ ১০ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারির দিন।

 ১৯৭১ সালের এই দিনে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার যে ঘোষণাপত্র জারি করে, সেটিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সাংবিধানিক দলিল।

এই ঘোষণাপত্রের খসড়া প্রণয়ন করেন ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, যেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় যাত্রা শুরু হয়েছে। ঘোষণাপত্রটি কার্যকর ধরা হয় ২৬ মার্চ থেকেই এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ন্যায্য অবস্থান তুলে ধরতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ব ইতিহাসে খুব কম জাতিই নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণা নিজেরা লিখে এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করে। বাংলাদেশ সেই গর্বিত জাতিগুলোর একটি এটাই আমাদের ইতিহাসের ভিত্তি, আত্মপরিচয়ের মূল শক্তি।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসকে বিকৃত করার এক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান তৈরির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত ধারাবাহিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। 

একটি মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে- জিয়াউর রহমান নাকি এককভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পুরো জাতিকে বিজয়ের পথে পরিচালিত করেছেন। এই বক্তব্য শুধু অতিরঞ্জিত নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

যদি এমন দাবি সত্য হতো, তবে প্রশ্ন জাগে কেন “মুজিবনগর সরকার” গঠিত হলো, “জিয়া নগর সরকার” নয়? কেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বঙ্গবন্ধুর নামেই জারি করা হলো? কেন ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে স্বাধীনতার ম্যান্ডেট দিল?
ইতিহাস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণআন্দোলন এবং জনগণের সুস্পষ্ট আকাঙ্ক্ষার ফল হিসেবে। “শেখ মুজিবের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর” এই স্লোগান সময়ের বাস্তবতার প্রতিফলন, কোনো কৃত্রিম নির্মাণ নয়।

অতএব, ইতিহাসকে খণ্ডিত করা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত করা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয় এটি জাতির আত্মপরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত। ইতিহাস নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সত্যকে অস্বীকার করে বিকল্প বয়ান দাঁড় করানো গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিশেষে বলা যায় যখন রাজ্যে রাজ্যে যুদ্ধ হয়, তখন কোনো রাজার পক্ষ থেকে পেয়াদা গিয়ে জনগণকে যুদ্ধে নামার আহ্বান জানাতে পারে। কিন্তু তাই বলে জনগণ সেই পেয়াদার আহ্বানেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এমন ধারণা নিছকই সরলীকরণ, বরং বোকামিরই নামান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *