বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬
চৈত্রের তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বরিশালে বেড়েছে বিদ্যুৎ সংকট। গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কখনো ২০–৩০ মিনিট, আবার কখনো এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পুরো শহরজুড়ে।
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু সেই চাহিদা মেটাতে না পারায় ঘন ঘন লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বাসিন্দারা বলছেন, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতেই বেশি বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। সরকার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধ করতে হয়। তার ওপর দিনের বেলায় বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্রেতা কমে যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, তেলের সংকটের কারণে জেনারেটর চালানোও সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণেই এলাকাভেদে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, পুরো বরিশাল বিভাগে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট, যেখানে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট। ফলে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “গ্রিড থেকেই বিদ্যুৎ কম আসছে। তাই বাধ্য হয়ে বারবার লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। যতক্ষণ না সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে, এই পরিস্থিতি চলতেই থাকবে।”
গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ সংকট বরিশালের জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে—এমনটাই আশঙ্কা।

