ডেস্ক রিপোর্ট
রাষ্ট্র কখন জাগে? যখন বিপদ আসে নাকি যখন মৃত্যু সংখ্যাটা “রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক” হয়ে ওঠে? দেশে হাম আবার ফিরে এসেছে, এবং ১৮০ টিরও বেশি শিশুর মৃত্যু ইতোমধ্যেই এক ভয়াবহ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও নীরবতা। অস্বস্তিকর, অমানবিক, এবং বিপজ্জনক নীরবতা।
একসময় যে রোগ নিয়ন্ত্রণে ছিল, বিশেষ করে শেখ হাসিনা-এর আমলে দীর্ঘদিন বড় আকারে দেখা যায়নি, সেটি আজ আবার ছড়িয়ে পড়ছে। এটি কি কেবল ভাইরাসের প্রত্যাবর্তন? নাকি নীতির ব্যর্থতার নগ্ন প্রকাশ?
২৪-এর জুলাইয়ের রাজনৈতিক পালাবদলের পর “সংস্কার” ও “জনকল্যাণ”-এর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন মুহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু বাস্তবতা বলছে স্লোগান আর সিদ্ধান্তের মধ্যে ফারাক ভয়ংকর। স্বাস্থ্যখাতে বাজেট সংকোচন, টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত, এবং একাধিক টিকার আমদানি জটিলতা এসব কি কেবল কাকতালীয়? নাকি অবহেলার ধারাবাহিক ফল?
একটি রাষ্ট্র যদি তার শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রের “সংস্কার” কাগজে থাকতে পারে বাস্তবে নয়। কারণ উন্নয়ন কখনোই কংক্রিটের প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না; উন্নয়ন মাপা হয় বেঁচে থাকা শিশুদের হাসিতে, নিরাপদ শৈশবে।
সবচেয়ে লজ্জাজনক দিকটি হলো বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীরবতা। তারেক রহমান একসময় বলেছিলেন, “We have plan, for the people, for the country.” কিন্তু আজ প্রশ্ন উঠছে সেই “people”-এর মধ্যে কি এই শিশুরা পড়ে না? নাকি পরিকল্পনাটি এমনই, যেখানে সংকটকেও অস্বীকার করা হয়?
মহামারি কেবল তখনই মহামারি হয় না, যখন সরকার সেটি ঘোষণা করে। মহামারি তখনই মহামারি, যখন মানুষ মারা যায় আর রাষ্ট্র চুপ থাকে।
এই নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয় এটি দায় এড়ানোর কৌশল।
এই বিলম্ব কোনো প্রক্রিয়া নয় এটি ঝুঁকি বাড়ানোর নামান্তর।
আর তাই প্রশ্নটা আজ আরও তীক্ষ্ণ-
আর কত শিশু মারা গেলে, রাষ্ট্র তার চোখ খুলবে?

